সড়ক পরিবহন আইনে কোন অপরাধে কি সাজা

সড়ক পরিবহন আইনে কোন অপরাধে কি সাজা

Posted on Jul 31, 2023

Category: নিয়ম-কানুন

blog-14.jpg

বিগত কয়েক বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের অন্যতম একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে প্রতি বছর দেশের জিডিপির ৩ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এর অন্যতম কারণ হিসেবে ট্রাফিক আইন না মানাকে চিহ্নিত করেছেন। দেশে জনসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সে অনুযায়ী আধুনিকায়ন হয়নি। 

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সড়কে যান চলাচলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “মোটরযান আইন ১৯৮৩” প্রণীত হলেও জরিমানা ও শাস্তিসমূহের যথাযথ ব্যবহার বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত নয়। যার ফলে চালকগণ ট্রাফিক রুলস ভঙ্গ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না। যার ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমার পরিবর্তে আরো বেড়েই চলেছে।

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তোপে সরকার সড়ক নিরাপত্তায় আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং ২০১৯ সাল থেকে “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮” কার্যকর করা হয়। যা মূলত ১৯৮৩ সালের মোটরযান আইনেরই সংশোধিত রূপ। এই আইনে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিতের জন্য ট্রাফিক রুলস অমান্য করার সাজা বাড়ানো হয়েছে এবং সাজাগুলোর যথাযথ প্রয়োগের ব্যাপারে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।  

নিম্নে উল্লেখিত আইনগুলোই মূলত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর সবচেয়ে কার্যকর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রায়োগিক আইনের অংশবিশেষ। তাই সহজে বুঝার স্বার্থে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর উল্লেখ্যযোগ্য জরিমানা ও শাস্তিসমূহ-  

১) নতুন আইন অনুযায়ী ট্রাফিক সংকেত ভঙ্গের জরিমানা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০০০০/- (দশ হাজার) করা হয়েছে। এছাড়াও হেলমেট না পরে মোটর সাইকেল চালালে জরিমানা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০০০০/- (দশ হাজার) টাকা করা হয়েছে। সিটবেল্ট না বাঁধলে কিংবা যান চালনারত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে চালককে সর্বোচ্চ ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা গুণতে হবে।  

২) বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে ৩০০০০০/- (তিন লাখ) টাকা জরিমানা ও তিন বছরের জেল হতে পারে। নতুন আইনে চালকদের লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি, সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে।

৩) ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান বা গণপরিবহন চালানোর দায়ে ছয় মাসের জেল বা ২৫০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া হয়েছে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২ পয়েন্ট রাখা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানা ছাড়াও সেখান থেকে পয়েন্ট কাটা যাবে এবং পুরো ১২ পয়েন্ট কাটা গেলে লাইসেন্স বাতিল। এর পাশাপাশি, চালক ও তার সহকারীকে প্রমাণস্বরূপ নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধারা ১৪ এর বিধান অনুযায়ী কন্ডাক্টর লাইসেন্স ব্যতিত কোনো গণপরিবহণে কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৪) রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরযান চালনা করলে ধারা ১৬ অনুযায়ী চালক সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৫) যদি কেউ ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ও প্রদর্শনে বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারা ১৭ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছর তবে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০০০০০/- (পাঁচ লাখ) টাকা তবে কমপক্ষে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

৬) মোটরযানের ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার করে বা ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত বা ফিটনেসের অনুপযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালনা সংক্রান্ত ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

৭) রুট পারমিট ছাড়া পাবলিক প্লেসে পরিবহন যান ব্যবহার করা হলে ধারা ২৮ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী, দোষীকে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২০০০০/- (বিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

৮) মোটরযানের বাণিজ্যিক ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড- যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, এ জন্য তিনি সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটা হবে।

বাংলাদেশে আইনের বাস্তবায়ন সহজ নয়। তবে জনগণের সচেতনতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব সড়ক ব্যবস্থাপনা নিরাপদ করতে ভূমিকা পালন করতে পারে।  

Get in touch with us to know more.

Contact Us