ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও সমাধান

ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও সমাধান

images

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর লিখিত পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর।


বর্তমানে বিআরটিএ এর সকল সার্কেল অফিসে একই মানদন্ড ও কাঠামো অনুসরণ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার্থীদের ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখ হতে এ কাঠামোতে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীকে যোগ্য সনাক্ত করা হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামোতে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের পূর্ণমান ২০ নম্বর এর মধ্যে ১২ নম্বর পেয়ে পাশ করতে হয়। লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় ২০ মিনিট।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ২০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর লিখিত পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য ৫০ টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হলো।

১) প্রশ্ন: সুপারিকল্পিত ভাবে রাস্তায় যানবাহন পরিচালনার দায়িত্ব কোন কোন সংস্থার উপর ন্যাস্ত?
উত্তর: সুপরিকল্পিত ভাবে রাস্তায় যানবাহন পরিচালনার দায়িত্ব নিম্নে লিখিত সংস্থার উপর ন্যাস্ত-
ক) যোগাযোগ মন্ত্রণালয়,
খ) সড়ক ও জনপথ বিভাগ,
গ) ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ,
ঘ) সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ,
ঙ) ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

২) প্রশ্ন: রাস্তায় চলমান গাড়ির কাগজপত্র পরির্দশন করার ক্ষমতা রাখেন কারা?
উত্তর: ক) পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,
খ) বি.আর.টি.এ এর কর্মকর্তা,
গ) মোবাইল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেট,
ঘ) শুধুমাত্র উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি কাগজ পত্র পরির্দশন করবেন।

৩) প্রশ্ন: দুর্ঘটনা এড়াবার জন্য রাস্তা ব্যবহারকারীকে কি করতে হবে?
উত্তর: দুর্ঘটনা এড়াতে প্রত্যেক রাস্তা ব্যবহারকারীকে নিম্নের ৩টি বিষয় জানা প্রয়োজন।
ক) ট্রাফিক আইন জানতে হবে।
খ) ট্রাফিক আইন কার্যকরী করতে হবে।
গ) ট্রাফিক আইন কার্যকরী করবার সদিচ্ছা থাকতে হবে।

৪) প্রশ্ন: নিরাপদ ভ্রমনের জন্য ইঞ্জিন ষ্টার্ট করে পাঁচ থেকে দশ (৫-১০) গজের মধ্যে অবশ্যই কি চেক করতে হয়?
উত্তর: ব্রেক প্যাডেলে চাপ প্রয়োগ করে ব্রেকের কার্যক্ষমতা।

৫) প্রশ্ন: নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার সাধারণ নিয়ম কি কি?
উত্তর: ক) গতি যত মাইল তত গজ দূরত্ব বজায় রাখা। খ) গতি যত কিঃ মিঃ তত মিটারের অর্ধেক মিটার অথবা দুই সেকেন্ড সময়ের দূরত্ব বজায় রাখা।


৬) প্রশ্ন: গতি কিসের উপর নির্ভর করে?
উত্তর: গতি সাধারনত নির্ভর করে- দৃষ্টিগোচরতার উপর/ আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর/ যানবাহনের উপর/ গাড়ির অবস্থার উপর/রাস্তার উপর/চালকের উপর।

৭) প্রশ্ন: গাড়ি দাঁড় করাতে চালক কিভাবে হাতের সংকেত দিবে?
উত্তর: হাত বের করে এলবো জয়েন্ট হতে হাত ৯০০ বেন্ট (ইবহঃ) করে উপরের দিকে উঠাবে।

৮) প্রশ্ন: ডান দিকের লেন সব সময় কারা ব্যবহার করবেন?
উত্তর: ওভারটেক করা গাড়ি।

৯) প্রশ্ন: রাস্তার মাঝখানের অখন্ডিত ডাবল হলুদ লাইন-এর অর্থ কি?
উত্তর: আইল্যান্ড।

১০) প্রশ্ন: মাঝখানের অখন্ডিত সাদা লাইন এর অর্থ কি?
উত্তর: ওভারটেক করা যাবে না।

১১) প্রশ্ন: ছোট ছোট বিভক্ত সাদা লাইন এর অর্থ কি?
উত্তর: ওভারটেক করা যাবে।

১২) প্রশ্ন: কোন কোন গাড়ি ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করতে পারেন?
উত্তর: জরুরী কাজে নিয়োজিত গাড়ি ভিআইপি গাড়ি/অগ্নিনির্বাপক গাড়ি/এম্বুলেন্স ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করতে পারেন।

১৩) প্রশ্ন: জরুরী গাড়ি কি ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার করেন।
উত্তর: ক) ভিআইপি গাড়ি: লাল বাতি ও সর্তক সংকেত ব্যবহার করেন,
খ) অগ্নিনির্বাপক গাড়ি: লাল-নীল বাতি ও বেল বাজিয়ে থাকেন,
গ) এম্বুলেন্স: লাল-নীল বাতি ও আলাদা হর্ন (সাইরেন) ব্যবহার করেন।

১৪) প্রশ্ন: জরুরী গাড়িকে অন্যান্য যানবাহন কি ভাবে সুযোগ দিয়ে থাকে?
উত্তর: অন্যান্য যানবাহন চালকদের উচিত হবে যতটুকু সম্ভব রাস্তার বামে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

১৫) প্রশ্ন: ইন্টারসেকশন কাকে বলে?
উত্তর: একাধিক রাস্তার মিলিত স্থানকে ইন্টারসেকশন বলে।

১৬) প্রশ্ন: ইন্টারসেকশনে ঢুকার আগে চালকের কি করণীয়?
উত্তর: গতি কম করা/নিম্ন গিয়ার ব্যবহার করা/নিজের রাস্তায় থাকা, প্রয়োজনে থামা তারপর সর্তকতার সাথে যাওয়ার চেষ্টা করা।

১৭) প্রশ্ন: ইন্টারসেকশনে ঢুকার পরে কি করণীয়?
উত্তর: সর্তকতার সাথে থামাতে প্রস্তুত থেকে অগ্রসর হওয়া।

১৮) প্রশ্ন: ডান দিকে মোড় নিতে গেলে লাল বাতি জ¦লে উঠলে গাড়ি রাস্তার কোন পাশে দাঁড় করাবেন?
উত্তর: রাস্তার ডান পার্শ্বে।

১৯) প্রশ্ন: লাল বাতি শেষে সবুজ বাতি জ্বলে গেলে কোন পথের গাড়ি আগে সুযোগ পাবে?
উত্তর: সোজা যাওয়ার গাড়ি আগে সুযোগ পাবে।

২০) প্রশ্ন: অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং সাধারনত কোথায় থাকে?
উত্তর: গ্রাম অঞ্চলে যেখানে সারাদিনে ২-৩টি ট্রেন চলাচল করে।

২১) প্রশ্ন: কোন কোন স্থানে হর্ন বাজানো নিষেধ?
উত্তর: যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ বোর্ড আছে। হাসপাতাল এলাকা/আবাসিক এলাকা/আদালত/কোর্ট ভবন/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়।

২২) প্রশ্ন: ওভারটেকিং এর সময়ে দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায় কি?
উত্তর: দর্শন আয়নার সাহায্যে পিছনের গাড়ির গতি বিধি লক্ষ্য করা

২৩) প্রশ্ন: ওভারটেক করার পূর্বে চালকের কর্তব্য কি?
উত্তর: দর্শন আয়নার সাহায্যে/ডানদিকের রাস্তা নিরাপদ কিনা লক্ষ্য রাখা/সম্মুখ হতে কোন গাড়ি আসছে কিনা দেখে নিরাপদ মনে করলে ইন্ডিকেটর দিয়ে ওভারটেক করা।

২৪) প্রশ্ন: গাড়ির সাধারণত স্কিডিং কোথায় হয়ে থাকে?
উত্তর: ভিজা রাস্তায় অতি দ্রæত চালালে, সকল হুইল সিলিন্ডার ব্রেক সমান ভাবে কাজ না করলে, রাস্তা পিচ্ছিল বা কর্দমাক্ত হলে, রাস্তায় বরফ বা ঘাস থাকলে।

২৫) প্রশ্ন: গাড়ি স্কিডিং করলে চালকের করণীয় কি?
উত্তর: এক্সিলারেটর প্যাডেল হতে পা উঠিয়ে গতি কমাবে। যে দিকে স্কিড করেছে সেই দিকে আস্তে স্টিয়ারিং কাটলে/ঘুরালে পিছনের অংশ স্কিডিং এর দিকে যাবে এবং সামনের অংশ এগিয়ে নিরাপদ স্থানে ঘুরে আসবে। তারপর গাড়ির গতি সর্বনিম্ন হলে ব্রেক দিয়ে থামাবেন।

২৬) প্রশ্ন: একজন যাত্রীর শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হলে চালক/কন্ডাক্টারের দায়িত্ব কি?
উত্তর: উক্ত ব্যক্তির মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিবে এবং বুকে মৃদু চাপ প্রয়োগ করবে এবং পরে নিকটতম হাসপাতালে নিতে হবে।

২৭) প্রশ্ন: ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখে কিভাবে?
উত্তর: বাতাস বা পানির সাহায্যে।

২৮) প্রশ্ন: গরম রেডিয়েটরে ঠান্ডা পানি ঢাললে ইঞ্জিনের কি ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: ইঞ্জিন ব্লক ক্রেক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২৯) প্রশ্ন: রেডিয়েটরের সাথে কয়টি হোজ পাইপ সংযুক্ত থাকে?
উত্তর: দুইটি হোজ পাইপ থাকে।

৩০) প্রশ্ন: কি কি কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয় বা ষ্টার্ট হয় না?
উত্তর: ট্যাংকে ফুয়েল না থাকলে/ডিজেল পাইপে বাতাস ঢুকলে/ পেট্রোল ইঞ্জিনের এইচ.টি তার বা এলটি তার লুজ হলে বা ছিঁড়ে গেলে /ব্যাটারী চার্জ দূর্বল হলে।

৩১) প্রশ্ন: স্কিডিং সাধারনতঃ কত প্রকার?
উত্তর: স্কিডিং সাধারনতঃ ৩ প্রকারঃ-
ক) সামনের দুই চাকার স্কিডিং,
খ) পিছনের দুই চাকার স্কিডিং,
গ) চার চাকার স্কিডিং।

৩২) প্রশ্ন: রাস্তায় গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ বন্ধ হওয়ার কারণ কি?
উত্তর: রাস্তায় গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ বন্ধ হওয়ার কারণ হলঃ-
ক) গাড়িতে জ্বালানি না থাকা।
খ) স্পার্ক প্লাগ খারাপ হওয়া।

৩৩) প্রশ্ন: শক এবজরভারের কাজ কি?
উত্তর: শক এবজরভারের কাজ হল গাড়ির ঝাকুনি কমানো।

৩৪) প্রশ্ন: রাস্তায় গাড়ি বের করার পূর্বে গাড়ির কোন কোন অংশ পরিদর্শন করতে হয়?
উত্তর:
ক) জালানী (পেট্রোল, ডিপজেল ও অকটেন),
খ) লুব অয়েল,
গ) রেডিয়েটরের পানির পরিমান,
ঘ) ব্রেক মাষ্টার সিলিন্ডারের ব্রেক ফ্লুইড,
ঙ) চাকার হাওয়ার পরিমান,
চ) চাকার নাট-বোল্ট সঠিক ভাবে আটকানো আছে কিনা,
ছ) ব্রেক সঠিক ভাবে কাজ করে কিনা।

৩৫) প্রশ্ন: পেট্রোল ইঞ্জিনে ভেপার লক বলতে কি বুঝ?
উত্তর: সাধারণত ফুয়েল লাইন অত্যাধিক তাপের ফলে লাইনের ভিতর ভেপার বা বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্পের চাপে লাইনের ভিতর জালানী সরবরাহ বন্ধ হওয়াকে ভেপার লক বলে।

৩৬) প্রশ্ন: ডিজেল ইঞ্জিনে এয়ার লক হয় কিভাবে?
উত্তর: ডিজেল ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবারহ লাইনে কোন ভাবে বাতাস প্রবেশ করলে এয়ার লক হয়। কিন্তু পাম্পের সাহায্যে পাম্প করে এয়ার ব্লিপিং স্ক্রু লুজ করে বাতাস বের করে এয়ার লক দূর করা যায়।

৩৭) প্রশ্ন: কি কি লক্ষণ দেখা দিলে ইঞ্জিন ওভার হলিং করা প্রয়োজন?
উত্তর: ক) ইঞ্জিনে জ্বালানি এবং লুব-ওয়েল বেশী খরচ হলে।
খ) অত্যাধিক কালো ধোয়া ছাড়লে।
গ) বোঝা বহন ক্ষমতা কমে গেলে।
ঘ) ইঞ্জিনের কম্প্রেশন দুর্বল হলে।

৩৮) প্রশ্ন: ডিজেল ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণঃ
উত্তর: ১। ট্যাংকে ফুয়েল নেই, 
২। ফুয়েল পাম্প অকেজো,
৩। ইনটেক ও এগজষ্ট ভাল্ব কাজ করে না, 
৪। গর্ভনর অকেজো,
৫। পিষ্টন ও বিয়ারিং জাম।

৩৯) প্রশ্ন: মোটরযান কাকে বলে ?
উত্তর: মোটরযান আইনে মোটরযান অর্থ কোনো যন্ত্রচালিত যান, যার চালিকাশক্তি বাইরের বা ভিতরের কোনো উৎস হতে সরবরাহ হয়ে থাকে।

৪০) প্রশ্ন : গাড়ি চালনার আগে করণীয় কাজ কী কী ?
উত্তর:
ক. গাড়ির হালনাগাদ বৈধ কাগজপত্র (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্সটোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইন্সুরেন্স (বিমা) সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ইত্যাদি) গাড়ির সঙ্গে রাখা।
খ. গাড়িতে জ্বালানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
গ. রেডিয়েটর ও ব্যাটারিতে পানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
ঘ. ব্যাটারি কানেকশন পরীক্ষা করা।
ঙ. লুব/ইঞ্জিন অয়েলের লেবেল ও ঘনত্ব পরীক্ষা করা, কম থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
চ. মাস্টার সিলিন্ডারের ব্রেকফ্লুইড, ব্রেকঅয়েল পরীক্ষা করা, কম থাকলে নেওয়া।
ছ. গাড়ির ইঞ্জিন, লাইটিং সিস্টেম, ব্যাটারি, স্টিয়ারিং ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নাট-বোল্ট টাইট আছে কি না অর্থাৎ সার্বিকভাবে মোটরযানটি ত্রুটিমুক্ত আছে কি না পরীক্ষা করা।
জ. ব্রেক ও ক্লাচের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।
ঝ. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং ফাস্টএইড বক্স গাড়িতে রাখা।
ঞ. গাড়ির বাইরের এবং ভিতরের বাতির অবস্থা, চাকা (টায়ার কন্ডিশন/হাওয়া/নাট/ এলাইমেন্ট/রোটেশন/স্পেয়ার চাকা) পরীক্ষা করা।

৪১) প্রশ্ন: মোটরযানের মেইনটেনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণ বলতে কী বুঝায় ?
উত্তর: ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় একটি গাড়ি হতে দীর্ঘদিন সার্ভিস পাওয়ার জন্য প্রতিদিন গাড়িতে যে সমস্ত মেরামত কাজ করা হয়, তাকে মোটরযানের মেইনটেনেন্স বলে।

৪২) প্রশ্ন: একটি মোটরযানে প্রতিদিন কী কী মেইনটেনেন্স করতে হয় ?
উত্তর: ৪০ নং প্রশ্নের উত্তরের খ থেকে ঞ পর্যন্ত।

৪৩) প্রশ্ন: সার্ভিসিং বলতে কী বুঝায় ?
উত্তর: মোটরযানের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর যে কাজগুলো করা হয়, তাকে সার্ভিসিং বলে।

৪৪) প্রশ্ন : গাড়ি সার্ভিসিংয়ে কী কী কাজ করা হয় ?
উত্তর:
ক. ইঞ্জিনের পুরাতন লুবঅয়েল (মবিল) ফেলে দিয়ে নতুন লুবঅয়েল দেওয়া। নতুন লুবঅয়েল দেওয়ার আগে ফ্লাশিং অয়েল দ্বারা ফ্লাশ করা।
খ. ইঞ্জিন ও রেডিয়েটরের পানি ড্রেন আউট করে ডিটারজেন্ট ও ফ্লাশিংগান দিয়ে পরিষ্কার করা, অতঃপর পরিষ্কার পানি দিয়ে পূর্ণ করা।
গ. ভারী মোটরযানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রিজিং পয়েন্টে গ্রিজগান দিয়ে নতুন গ্রিজ দেওয়া।
ঘ. গাড়ির স্পেয়ার হুইলসহ প্রতিটি চাকাতে পরিমাণমতো হাওয়া দেওয়া।
ঙ. লুবঅয়েল (মবিল) ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার ও এয়ারক্লিনার পরিবর্তন করা।

৪৫) প্রশ্ন : গাড়ি চালনাকালে কী কী কাগজপত্র গাড়ির সঙ্গে রাখতে হয় ?
উত্তর: ক. ড্রাইভিং লাইসেন্স, খ. রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ব্লু-বুক), গ. ট্যাক্সটোকেন, ঘ. ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট, ঙ.ফিটনেস সার্টিফিকেট (মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) এবং চ. রুটপারমিট (মোটরসাইকেল এবং চালক ব্যতীত সর্বোচ্চ ৭ আসন বিশিষ্ট ব্যক্তিগত যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)।

৪৬) প্রশ্ন : রাস্তায় গাড়ির কাগজপত্র কে কে চেক করতে পারেন/কোন কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণকে গাড়ির কাগজ দেখাতে বাধ্য ?
উত্তর: সার্জেন্ট বা সাব-ইনসপেক্টরের নিচে নয় এমন পুলিশ কর্মকর্তা, মোটরযান পরিদর্শকসহ বিআরটিএর কর্মকর্তা এবং মোবাইলকোর্টের কর্মকর্তা।

৪৭) প্রশ্ন : মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিধান ও আরোহী বহন সম্পর্কে আইন কী ?
উত্তর: মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত ১ জন আরোহী বহন করা যাবে এবং উভয়কেই হেলমেট পরিধান করতে হবে (মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ধারা-১০০)।

৪৮) প্রশ্ন : সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ কী কী?
উত্তর:
ক. অত্যধিক আত্মবিশ্বাস,
খ. মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো,
গ. অনুমোদিত ওভারটেকিং এবং
ঘ. অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন।

৪৯) প্রশ্ন : গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হলে চালকের করণীয় কী ?
উত্তর: আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী থানায় দুর্ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট করা।

৫০) প্রশ্ন : আইন অনুযায়ী গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা কত ?
উত্তর: হালকা মোটরযান ও মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল, মাঝারি বা ভারী যাত্রীবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫ মাইল এবং মাঝারি বা ভারী মালবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ মাইল।

 

Get in touch with us to know more.

Contact Us