Post Image

দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির উপায়


সড়কে গাড়ি বা যেকোন মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর বিভিন্ন উদ্যোগের পরও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। বিআরটিএ (BRTA) এর সাধারণ প্রক্রিয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম ০২ (দুই) মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্র বিশেষে ড্রাইভিং লাইসেন্স খুবই দ্রুত পাওয়া সম্ভব।

ধরুন, আপনি শিক্ষা বা কর্মের তাগিতে দেশের বাইরে যাবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন। অথবা আপনি লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করেছেন। কিন্তু আপনার লার্নার উল্লেখিত পরীক্ষার তারিখের পূর্বেই আপনাকে বিদেশে পাড়ি জমাতে হবে। এমন ক্ষেত্র বিশেষে আপনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে লাইসেন্স পেতে পারেন। জরুরী ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির এ প্রক্রিয়াটিই আজকে আমরা জানাবো।

দ্রুত সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স

একটি সার্বজনীন প্রশ্ন হল: শিক্ষা, কর্ম বা ব্যক্তিগত তাগিদে বিদেশগামীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চায়, এক্ষেত্রে তারা কি করবে?

মূলত খুব সহজ প্রক্রিয়াতেই আপনি দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পারেন। আজ আমরা যে প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাবো, এই প্রক্রিয়ায় আপনি ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন। তবে এটি হবে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের সফট কপি। এ ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করেই আপনি সব ধরনের সুবিধা পাবেন।

দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া

দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য খুব সহজ কয়েকটি প্রক্রিয়া বা ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

প্রথমত আপনাকে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে। সাধারণত শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা লার্নার কার্ডে উল্লেখিত তারিখে ছবি ও বায়োমেট্রিক প্রদান এবং তিন ধাপের পরীক্ষায় (লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড) অংশগ্রহণের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া

তবে যেহেতু আপনি বিদেশ গমন করবেন। ফলে উল্লেখিত তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় আপনাকে বিশেষ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে বিআরটিএ বরাবর আবেদন করতে হবে। যাতে আপনার পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ এগিয়ে আনা যায়।

দ্রুত সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির এ বিশেষ প্রক্রিয়ার জন্য আপনাকে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে। এই আবেদনপত্রের ফরমেটটি বিআরটিএ প্রদান কার্যালয় বনানী থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আবেদনপত্রের সাথে আপনাকে যেই ডকুমেন্টসগুলো সংযুক্ত করতে হবে তা হলো:

১. লার্নারের ফটোকপি
২. পাসপোর্টের ফটোকপি 
৩. ভিসার ফটোকপি 
৪. প্লেন/এয়ার টিকেটের ফটোকপি

এই আবেদনের ক্ষেত্রে প্লেনের টিকিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ কর্তৃপক্ষ আপনার প্লেনের টিকিট ও লার্নারের সময়ের পার্থক্য যাচাই করবেন। তাছাড়াও তাঁরা আপনাকে ফ্লাই (বিমান যাত্রা) করার ২ থেকে ৭ দিন আগের একটি পরীক্ষা সিডিউল প্রদান করবেন।

মনে রাখবেন, এ আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য আপনার লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সে করার ন্যূনতম এক সপ্তাহ পর আবেদন করা উচিত।

আবেদন করার পর বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে আবেদনপত্র ও সংযুক্ত ডকুমেন্টস যাচাই করে সংশ্লিষ্ট সার্কেলকে আপনার পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে অবগত করবে। সাধারণত ৩ থেকে ৪ কর্ম দিবসের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ এটি করে থাকে।

আপনার পরীক্ষার তারিখ বা সিডিউল পরিবর্তন হলে BRTA এর সার্ভিস পোর্টাল (BSP) অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি দেখতে পারবেন। এছাড়াও এসএমএস এর মাধ্যমে আপনাকে পরীক্ষা তারিখ অবগত করা হবে।

পরবর্তীতে আপনি নির্দিষ্ট তারিখে ছবি ও বায়োমেট্রিক প্রধান শেষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। তিন ধাপের পরীক্ষার সব কটিতেই উত্তীর্ণ হলে আপনি ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত পেমেন্ট করে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনার ই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।

বিআরটিএ এর এ প্রক্রিয়াটি জরুরী প্রয়োজনে সেবা প্রত্যাশীদের জন্য। তাই সেবা প্রত্যাশীদের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়াও অতি সূক্ষ্ম হয়ে থাকে। 

WhatsApp Chat