Post Image

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের নিয়ম


সড়কে মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স অপরিহার্য। এটি মোটরযান পরিচালনার প্রমাণপত্র ছাড়াও দেশে এবং বিদেশে ব্যক্তিগত পরিচয় পত্র হিসাবে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে থাকে।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য গ্রাহকে অধিকাংশ তথ্য জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে নিয়ে থাকে। তবে গ্রাহকের বর্তমান ঠিকানা সহ কিছু সাধারণ তথ্য আবেদনের সময় প্রদান করতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের গ্রাহকের নাম, জন্ম তারিখ, পিতার নাম সহ এনআইডি কার্ড থেকে সংগ্রহীত বিভিন্ন তথ্যের অমিল রয়েছে। আবার টাইপিং মিসটেকের জন্যও অনেক ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সে ভুল তথ্য আসতে পারে।

এরূপ পরিস্থিতিতে ড্রাইভিং লাইসেন্সে গ্রাহকের নাম, জন্ম তারিখ, পিতার নাম ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যাদি ভুল পরিলক্ষিত হলে তা পরিবর্তন সুযোগ রয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের উপায়

একটা সময় ছিল যখন ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের জন্য বারবার বিআরটিএ (BRTA) অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো, ম্যানুয়ালি ফরম ফিলাপ করতে হতো এবং ব্যাংকে গিয়ে ফ্রি পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু এখন গ্রাহক চাইলেই ঘরে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন আবেদন করতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন আবেদন

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের জন্য অবশ্যই বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিবন্ধিত থাকতে হবে। আপনার যদি ইতিপূর্বে বিএসপি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে প্রবেশ করুন অপশনে ক্লিক করে লগইন করে নিন। আর যদি একাউন্টে না থাকে তাহলে নিবন্ধন অপশনে ক্লিক আপনার জন্ম তারিখ, NID নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট তৈরি করে নিন। কিভাবে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিবন্ধন করবেন বা অ্যাকাউন্ট খুলবেন তা জানতে এখানে ক্লিক করুন

যেকোনো  কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন থেকে একাউন্ট করার পর ‘প্রবেশ করুন’ অপশনে ক্লিক করে আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে Login করে নিন। তাহলে আপনি bsp portal ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে চলে আসবেন। এখন মেনু থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে অনেক গুলো অপশন চলে আসবে। সেখান থেকে একটু নিচে নামলে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন’ নামে একটি অপশন পেয়ে যাবেন। সেটিতে ক্লিক করুন।

এখন অনুসন্ধানের ধরন হিসেবে ‘লাইসেন্স নম্বর বা রেফারেন্স নম্বর’ যেকোন একটি সিলেক্ট করে আপনার লাইসেন্সটি অনুসন্ধান করে নিন। তথ্যটি দিয়ে অনুসন্ধান অপশনে ক্লিক করলে আপনার সামনে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সকল তথ্য গুলো দেখতে পাবেন। যেমন: আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছবি, পূর্ববর্তী ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম্বার, রেফারেন্স নাম্বার ও ব্যক্তিগত তথ্য ইত্যাদি।

এখন একটু নিচের দিকে নামলে ‘সেকশন এ’ একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সর সকল তথ্য গুলো দেখতে পাবেন। কিন্তু আপনি এখান থেকে সকল তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন না। তার মধ্যে কিছু কিছু তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন। যেমন:

মোট কথা: যেই তথ্যগুলোর পাশে খালি বক্স আছে সেগুলো পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি যেই ভুলটি পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন সেটির সঙ্গে থাকা ‘বক্সে টিকমার্ক‘ দিয়ে কনফর্ম করুন। তাহলে পাশে আরেকটি বক্স শো করবে। সেখানে সংশোধিত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে দিন।

এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন জন্য ‘সেকশন বি’ অপশনে কিছু ডকুমেন্ট সংযুক্ত করতে হবে যেমন:  

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র
  2. ইউটিলিটি বিল (গ্যাস/বিদ্যুৎ/ওয়াসা) ও
  3. বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান কপি

নোট: অনেকে মনে করে থাকেন আমার নামে তো বিদ্যুৎ বিল নেই। তাহলে আমি যদি বাবা মায়ের নামে বিদ্যুৎ বিলের কপি সংযুক্ত করি সেটি ঠিক হবে কিনা? হ্যাঁ, হবে। মূলত আপনার নামেই যেই  বিদ্যুৎ বিল থাকতে হবে বিষয়টা এমন নয়। তবে হ্যা, আপনি যেই বিদ্যুৎ বিল সাবমিট করবেন সেখানে উল্লেখিত তথ্যের সাথে যেনো আপনার এড্রেসের মিল পাওয়া যায় সেদিকে লক্ষ রাখুন। এখন একটু নিচের দিকে স্ক্রোল করলে আপনি ‘স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির ঠিকানা’ একটি অপশন দেখতে পাবেন।

সেখানে আপনার বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করে দিন। সকল ডকুমেন্ট সঠিকভাবে আপলোড করার পর ‘সংরক্ষণ করুন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে দেখতে পাবেন DL correction request saved successfully মেসেজ শো করছে। এখন আপনি যদি নিচে চলে আসেন তাহলে ‘অনলাইন ফি’ নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন।

এখন আপনি অনলাইন ফি লেখাটিতে ক্লিক করলে আবার ও আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সকল তথ্য দেখতে পাবেন। সেখান থেকে নিচে স্কোল করলে দেখতে পাবেন আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন করার জন্য কত টাকা ফি জমা করতে হবে সেটি দেখাচ্ছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন ফি পরিশোধের নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন জন্য মূল ফি ৩০০ টাকা, কার্ড ফি ৬১০ টাকা, ভ্যাট ফি ১৩৭ টাকা এবং ভেলিভারি ফি ৬০ টাকা। ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন জন্য মোট ১১০৭ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। এখন ফি পরিশোধ করতে ‘ফি জমা দিন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার মোবাইল নম্বর দেখতে পাবেন।

এখন মোবাইল নম্বরের পাশে থাকা বক্সটিতে ক্লিক করুন। তাহলে একটু নিচে payment method অপশন গুলো দেখতে পাবেন। যেমন: বিকাশ, নগদ, ডাচ বাংলা কার্ড, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড ইত্যাদি। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি পেমেন্ট গেটওয়ে সিলেক্ট করুন।

উদাহরণ স্বরুপ আপনি নগদ সিলেক্ট করলেন। তাহলে আপনাকে টোটাল এমাউন্টের সাথে নগদ সার্ভিস ফি বাবদ আরোও (১.৫%) অর্থাৎ ১৬ টাকা পেমেন্ট করতে হবে। তাহলে আপনাকে সর্বমোট পেমেন্ট করতে হচ্ছে ১১২৩ টাকা। পেমেন্ট শুরু করতে ‘I agree’ বক্সে টিকমার্ক দিয়ে নিচে থেকে ‘নিশ্চিত’ লেখার উপর ক্লিক করলে নগদের গেটওয়ে ওপেন হয়ে যাবে।

এখন আপনার নগদ নম্বর দিয়ে ‘Proceed’ লেখার উপর ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে। এখন আপনাকে একটি ভেরিফিকেশন কোড দিবে সেই কোডটি বসিয়ে দিন এবং পরবর্তী ধাপে আপনার নগদের পিন নম্বর দিয়ে দিন। তাহলে আপনার পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এখন আপনি BRTA approval জন্য অপেক্ষা করুন। BRTA approval হয়ে গেলে Draft save অপশনে টিক চিহ্ন এবং তারিখ চলে আসবে। এবং আপনাকে একটি টেম্পোরারি লাইসেন্স দেওয়া হবে। তারপর BRTA আপনার সকল তথ্য চেক করবে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন আবেদন সঠিক মনে হলে approved করে দিবে।

BRTA approval complete হলে E-paper license generated অপশনে টিক চিহ্ন ও তারিখ চলে আসবে। এখন আপনি এখান থেকে ই-পেপার temporary লাইসেন্স ডাউনলোড করে নিতে পারেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন।

পরবর্তীতে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি প্রিন্ট হওয়ার পরে আপনার ভেলিভারি ঠিকানার ভেলিভারি হবে যাবে। এই টোটাল প্রসেসটা কারো কারো ক্ষেত্রে কম বেশি সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন ১৫ থেকে ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে হয়ে থাকে।

উল্লেখিত নিয়মটি নন প্রফেশনাল লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। প্রফেশাল লাইসেন্সের জন্য এখনোও মেনুয়ালি আবেদন করতে হয়। সুতারাং যাদের নন প্রফেশাল ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে তারা চাইলে এই নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন করে নিতে পারেন।

WhatsApp Chat