Post Image
  • ImgJun 24-2024
  • Img

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করার পদ্ধতি


সড়কে গাড়ি বা মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন। বিশ্বের সকল দেশেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবহার রয়েছে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে থাকে। সাধারণত ইলেকট্রিক চিপযুক্ত প্লাস্টিকের লাইসেন্স কার্ড প্রদান করা হয়ে থাকে সংস্থাটি।

ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স

বর্তমানে বিআরটিএ-এর বিভিন্ন সংকটের কারণে গ্রাহকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে দেরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করছে। এটি মূলত ড্রাইভিং লাইসেন্সের সফট কপি। কিউআর কোড (QR Code) সম্বলিত ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে গ্রাহক/চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ডের সকল সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের তিন ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়।

কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করবেন

অনেকেই জানেন না কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করতে হয়। তাই আজকের ব্লগে আমরা তুলে ধরব কিভাবে কিউআর কোড (QR Code) সম্বলিত ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড বা উত্তোলন করতে হয়।

ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোডের নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্সের তিন ধাপের (লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আপনি ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে লগইন করতে হবে। বিআরটিএ সার্ভিস (bsp portal) পোর্টালে লগইন করতে [এখানে ক্লিক করুন]।

ইউজার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে বিএসপি পোর্টালে লগইন করার পর আপনার ড্যাশবোর্ডে বেশ কিছু অপশন দেখতে পাবেন। যেমন: শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য, মোটরযানের তথ্য, এপয়েন্টমেন্ট এর সময়সূচি, ড্রাইভারদের তথ্য, রাইড শেয়ারিং মোটরযান সংক্রান্ত তথ্য এবং রাইড শেয়ারিং মোটরযান সংক্রান্ত অন্যান্য আবেদন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন

অপশনগুলোর মধ্য থেকে আপনাকে 'ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন' অপশনে ক্লিক করতে হবে। এখানে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সকল তথ্য চলে আসবে। যেমন: সার্ভিস আইডি নম্বর, আবেদনকারীর নাম, আবেদনের তারিখ, আবেদনের ধরন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরণ ইত্যাদি।

এই তালিকার বিস্তারিত অংশে আপনার ড্রাইভিং টেস্টের ফলাফল দেখতে পাবেন। এখানে যদি কৃতকার্য থাকে, তার মানে আপনি তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অর্থাৎ আপনি ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর যদি অকৃতকার্য দেখায়, সেক্ষেত্রে আপনি পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করবেন।

আপনি যদি ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় কৃতকার্য থাকেন তাহলে বিস্তারিত অংশের নিচে 'দেখুন ও পরবর্তী ধাপ' অপশনটিও দেখাবে। এই অপশন ক্লিক করলে আপনাকে একটি আবেদন ফরম প্রদান করা হবে। সেখানে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ কিছু সাধারণ তথ্য সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ পাবেন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া ঠিকানাতেই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স কুরিয়ার করে পাঠানো হবে। তাই ঠিকানা লেখার সময় চেক করে নেবেন।

এরপর 'পরবর্তী'তে ক্লিক করলে আপনাকে পেমেন্টের পরিমাণ দেখাবে। যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সুযোগ রয়েছে। সঠিকভাবে পেমেন্ট করলেই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন সম্পন্ন হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিন পর বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে লগইন করে 'ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন' অপশনে ক্লিক করলে 'কৃতকার্য' এর নিচে 'ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স' অপশন দেখাবে। এই অপশনে ক্লিক করলে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ডাউনলোড করতে বলা হবে বা ডাউনলোড হয়ে যাবে। [ব্রাউজার অনুযায়ী এটি হতে পারে]

ডাউনলোড হওয়া পিডিএফ কপিটি ৩ (তিন) পৃষ্ঠার হবে। এর মধ্যে তৃতীয় পৃষ্ঠায় আপনার ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সটি থাকবে। এই লাইসেন্সটি আপনার স্মার্টফোনে সংরক্ষণের মাধ্যমে আপনি সড়কে বৈধভাবে মোটরযান চালাতে পারবেন।

 

WhatsApp Chat