অনলাইনে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া

অনলাইনে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া

images

২০২৪ সালে পাঁচটি মাত্র সহজে ধাপে স্বল্প সময়েই বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল থেকে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করুন।


লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রাথমিক পর্যায়। লার্নার লাইসেন্স দিয়ে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত কোনো রাস্তায় মোটরযান চালাতে যাবে না। এটি মোটরযান ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের অনুমতিপত্র মাত্র। লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ব্যবহার করে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তায় যানবাহন চালালে ট্রাফিক আইনে শাস্তি বা মামলার সম্মুখীন হতে হবে।

লার্নার লাইসেন্স বা শিক্ষানবিশ অনুমতিপত্র সংগ্রহ করার পর আপনাকে বিআরটিএ নিবন্ধিত ড্রাইভিং স্কুল বা দক্ষ প্রশিক্ষকের নিকট থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হবে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গাড়ির সামনে ও পিছনে "L" লেখা সম্বলিত স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। তবে অবশ্যই ফাঁকা রাস্তায় বা উন্মক্ত জায়গা প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে, লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সে উল্লেখিত পরীক্ষার তারিখ অনুয়াযী লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশগ্রহন করতে হবে। এ সকল পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যাবে।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য কাগজপত্র

বাংলাদেশ সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিআরটিএ এর সকল সেবা সমূহ অনলাইনে পেতে সর্বোপরি কাজ করছে। যার প্রেক্ষিতে, বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সকল সেবাই প্রদান করে থাকে। যেমন: পেশাদার/অপেশাদার নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পেপার, ফিটনেস, মালিকানা বদলি, ইঞ্জিন পরিবর্তন ইত্যাদি।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদনের জন্য যে কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা সফট কপি প্রস্তুত রাখতে হবে তা হল-

১. প্রার্থীর ছবি (৩০০ x ৩০০ পিক্সেল সাইজের সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোবাইট),
২. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা পাসপোর্ট (অনূর্ধ্ব ৬০০ কিলোবাইট),
৩. বর্তমান ঠিকানার গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির বিল (সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোবাইট, 
৪. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এর স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি) [ কমপক্ষে ৮ম শ্রেনী পাশ হতে হবে ],
৫. রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সইসহ পূরণকৃত মেডিকেল সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি (অনুর্ধ্ব ৬০০ কিলোবাইট ) [মেডিকেল সার্টিফিকেট ফরম ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন]।

বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে একাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদন করার জন্য আপনার কম্পিউটার/মোবাইল ফোনে ব্রাউজার থেকে BRTA SERVICE PORTAL এ প্রবেশ করে আপনাকে নিবন্ধন করতে হবে। [বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) এর লিংক]

নিবন্ধন করতে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও নিজের এন আইডি-তে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার প্রয়োজন হবে। সকল তথ্য দেওয়ার পর আপনার মোবাইলে ওটিপি নম্বর যাবে এবং সেটা সাবমিট করতে হবে। এরপর আপনার ই-মেইল (ইউজার আইডি হিসেবে) দিয়ে পাসওয়ার্ড সেটআপ করে নিতে হবে।

অনলাইন লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া

পাসওয়ার্ড সেটআপের পর লগইন অপসনে ক্লিক করে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এবার লার্নার লাইসেন্স এর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

প্রথমেই সার্ভিস পোর্টালে আপনার ছবি এটার্চ করে প্রোফাইল হালনাগাদ করে নিতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ড এ ক্লিক করতে হবে। এই পেইজের বামপাশে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন অপসনটিতে ক্লিক করলে ৫টি অপসন/ধাপ আসবে। সেগুলো মধ্যে- 

প্রথম ধাপ হলো, জাতীয় পরিচয় পত্র তথ্য সেখানে আপনার ভোটার আইডি নাম্বার, নাম, পিতার ও মাতার নাম। 

দ্বিতীয় ধাপটি হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স এর তথ্য সেখানে আপনি অপেশাদার/পেশাদার কোনটি  আবেদন করতে চান সেটা সিলেক্ট করতে পারবেন। 

তৃতীয় ধাপটি হলো, আবেদনকারীর প্রাথমিক তথ্য সেখানে আবেদন কারীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, বিবাহিত হলে স্বামী/স্ত্রীর নাম ও মোবাইল নাম, শিক্ষাগতযোগ্যতা, পেশা, দ্বৈত্য নাগরিক হয়ে থাকলে সেখানে ক্লিক করে দেশের নাম সংযুক্ত করতে হবে।

চতুর্থ ধাপ হলো, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সেখানে জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য ব্যাক্তির নাম মোবাইল নাম্বার এবং তার সাথে সম্পর্ক উল্লেখ্য করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা- হোল্ডিং নাম্বার, পাড়া/মহল্লা, রোড/ব্লক, বিভাগ, জেলা, থানা, পোস্ট কোড ( জাতীয় পরিচয় পত্র অনুয়ায়ী ইংরেজীতে অনুবাদ করতে হবে কারন ড্রাইভিং স্মার্ট কার্ড এই অনুয়ায়ী হবে)। বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন সেখানে ও হোল্ডিং নাম্বার, পাড়া/মহল্লা, রোড/ব্লক, বিভাগ, জেলা, থানা, পোস্ট কোড ইংরেজীতে দিতে হবে। বর্তমান ঠিকানা আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন কারন বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তশীল হয়ে থাকে। তবে পরিবর্তন করার প্রয়োজন না হলে পরিবর্তন করার দরকার নেই। কারন বর্তমান ঠিকানা অনুয়ায়ী আপনার পরীক্ষার ভেন্যূ নির্ধারিত হবে।

পঞ্চম ধাপ হলো, সংযুক্তি ও কার্ড বিতরন এর তথ্য সেখানে আপনার প্রযোজনীয় কাগজপত্র সংযুক্তি করতে হবে এবং স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির ঠিকানা সিলেক্ট করতে হবে। আপনি যে ঠিকানায় ডাকযোগে নিতে চান বর্তমান/স্থায়ী এবং অন্য কোন ঠিকানায় নিতে চাইলে অন্যান্য তে ক্লিক করে তার পূর্ন ঠিকানা ও আপনার মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

সর্বশেষ ধাপ হলো, সাবমিট অপসনে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনার সকল তথ্য চলে আসবে। যদি কোন তথ্য সংশোধন করতে চান, তাহলে পূনরায় ফিরে গিয়ে সংশোধন করতে পারবেন।

সংশোধন করার প্রয়োজন না হয় তাহলে ফি জমা দিন অপশনে ক্লিক করে অনলাইনের মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে আপনার শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সংগ্রহ (ডাউনলোড) করতে হবে। লার্নার লাইসেন্স এ পরীক্ষার যে তারিখ উল্লেখ থাকবে সেই তারিখ অংশগ্রহন করতে হবে।

অনলাইন লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদন ফি

শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আবেদন ফি ভিন্ন হয়ে থাকে।

বর্তমানে (২০২৪ সালে) লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি – 

ক) ক্যাটাগরি-০১ (এক): ৫১৮/-টাকা (শুধু মোটরসাইকেল অথবা শুধু হালকা মোটরযান অর্থাৎ যে কোনো এক ধরণের মোটরযান),
খ) ক্যাটাগরি-০২ (দুই): ৭৪৮/-টাকা  (মোটরসাইকেল এবং হালকা মোটরযান একসাথে অর্থাৎ মোটরসাইকেলের সাথে যে কোনো এক ধরণের মোটরযান)

বিশেষ দ্রষ্টব্য, বর্তমান লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সে উল্লেখিত তারিখে-ই লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট ছাড়াও পরীক্ষার্থীর বায়োমেট্রিক ও ছবি নেয়া হয়।  

আরও পড়ুন:
☞  অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সহজ নিয়ম
☞  লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া
☞  অনলাইনে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদন ও প্রাপ্তির প্রক্রিয়া
☞  ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও সমাধান
 

Get in touch with us to know more.

Contact Us