Post Image
  • ImgJun 30-2024
  • Img

মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন


বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের একার ভেদে ১ থেকে ২ বছর পরপর মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করতে হবে। প্রাইভেট মোটরযানের ক্ষেত্রে ২ বছর পরপর এবং বানিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে ১ বছর পরপর ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করতে হবে।

ফিটনেস সার্টিফিকেট কি?

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই সরকারীভাবে যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে।

ফিটনেস সার্টিফিকেট হলো যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত বা ফিট কিনা তার প্রমাণপত্র। এক কথায় যানবাহন চলাচলের উপযুক্ততার সনদ হচ্ছে ফিটনেস সার্টিফিকেট।

যেভাবে মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন করবেন

অ্যাপয়েন্টমেন্ট: বিআরটিএ এর নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের সার্টিফিকেটের জন্য প্রথমে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হবে। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) একাউন্ট থেকে প্রথমে যানবাহনে রেজিস্ট্রেশন নম্বার নিবন্ধন করতে হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী তারিখ ও সময় নির্ধারণের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। প্রাইভেট মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট এর বৈধতার মেয়াদ উত্তীর্ণের ১৫ দিন আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করা যায়।

নির্ধারিত ফি জমা: যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণ করা আছে। যানবাহনের প্রকারভেদে বিভিন্ন রকম ফি রয়েছে। ফিটনেস এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহনের পরে নির্ধারিত ফ্রি পরিশোধ করতে হবে। যানবাহনের সিসি ও ধরণ অনুযায়ী ফিটনেস ফি এর সাথে অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হবে। অগ্রিম আয়কর প্রতিবছর একবার প্রদান করতে হবে। সিসি অনুসারে বিভিন্ন প্রকার সিসি গাড়ির আয়করের পরিমান:-

  • ১৫০০ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমান ২৫০০০টাকা,   
  • ১৫০১-২০০০ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমান ৫০,০০০ টাকা,
  • ২০০১-২৫০০ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমান ৭৫,০০০ টাকা,
  • ২৫০১-৩০০০ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমান ১,২৫,০০০ টাকা,
  • ৩০০১-৩৫০০ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমান ১,৫০,০০০ টাকা,
  • ২৮০১ সিসির উপরে গড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমান ২,০০,০০০ টাকা।

একই নামে একাধিক গাড়ি থাকলে সেক্ষেত্রে অগ্রিম আয়করের সাথে আরও ৫০% প্রদান করতে হবে।

যানবাহনের ফিটনেস বা উপযুক্ততা

বাংলাদেশের সড়ক আইন অনুযায়ী যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন বাধ্যতামূলক। যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যানবাহনের ফিটনেস বা উপযুক্ততা। এক্ষেত্রে যানবাহনটি অবশ্যই সব দিক থেকে ফিট হতে হবে। যেমন যানবাহনের ইঞ্জিন, রং, চাকা, গ্লাস ও সাসপেনশন লাইট ইত্যাদি সঠিকভাবে সচল হতে হবে। অন্যথায় ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করা যাবে না।

মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের জন্য যে সকল কাগজ পত্র প্রয়োজন তা হলো:

  • ১. পূর্বের ফিটনেস সার্টিফিকেট (মূল কপি)।
  • ২. ফিটনেসের জন্য নেয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট এর কপি।
  • ৩. হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন এর সত্যায়িত ফটোকপি।
  • ৪. প্রয়োজনীয় ফি জমা রশিদ বিআরটিএ কপি।
  • ৫. হালনাগাদ TIN সংক্রান্ত কাগজপত্র-এর সত্যায়িত কপি।
  • ৬. রেজি: সার্টিফিকেট এর ফটোকপি। 

সরেজমিনে মোটরযানের পরিদর্শন

উপরোক্ত কার্য সম্পাদন শেষে মোটরযানটি পূর্বের নেয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা বিআরটিএ সার্কেল অফিসে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যেতে হবে। কাগজপত্র ও ফি জমা রশিদ সঠিক ও মোটরযান এর উপুযক্তার মাধ্যমে ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন কার্য সম্পাদন করবেন।

কেন ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করবেন?

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন না করলে বিলম্ব মাশুল দিতে হবে। রাস্তায় চলাচলের জন্য আপনার মোটরযানটির অবশ্যই ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন থাকতে হবে। ফিটনেস সার্টিফিকেট এর মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় রাস্তায় নামালে ট্রাফিক অনুযায়ী ৭৫ ধারায় মামলা করা হয়। প্রথমবার ১০,০০০/- টাকার মামলা করা হয় এবং দ্বিতীয়বার একই ধারায় ২০,০০০/- টাকার মামলা করা হয়। এধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে চাইলে অব্যশই ফিটনেস সার্টিফিকেট এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই নবায়ন করতে হবে।

WhatsApp Chat